কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ এ ০৩:২১ PM
কন্টেন্ট: নোটিশ প্রকাশের তারিখ: ১৮-০৬-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ০১-০৫-২০২৭
আষাঢ়ের শীতল স্পর্শে ধরণীকে শান্ত ও শুদ্ধ করতে বর্ষা আসে আমাদের মাঝে। খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর, ডোবা ভরে ওঠে নতুন জোয়ারে। বর্ষার আগমন আমাদের কৃষিকাজে নিয়ে আসে ব্যাপক ব্যস্ততা। প্রিয় কৃষক-কৃষাণী ও কৃষিজীবী ভাইবোনেরা, আসুন আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে জেনে নেই আষাঢ় মাসে কৃষির করণীয় আবশ্যকীয় কাজগুলো।
১. বোরো:
বোরো ধান ফসলসহ রবি/২০২৫-২৬ মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের সংরক্ষিত বীজ উঁচু ও সঠিক পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
বীজসমূহ যাতে বৃষ্টিতে ভিজে বা অতিরিক্ত আর্দ্রতায় নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
২. আউশ:
আউশ ধানের জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য যত্ন নিতে হবে।
আউশ ধানের ক্ষেতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (IPM) মাধ্যমে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে হবে।
বন্যার আশঙ্কা হলে আগাম রোপণ করা আউশ ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে, মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৩. আমন:
এটি আমন ধানের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। পানিতে ডুবে না এমন উঁচু খোলা জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বন্যার কারণে রোপা আমনের বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকলে ভাসমান বীজতলা বা দাপগ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা যাবে।
বীজতলায় বীজ বপন করার আগে ভালো জাতের সুস্থ-সবল বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
উন্নত জাতসমূহ: ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৮৭, ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯১, ব্রি ধান৯৩, ব্রি ধান৯৪, ব্রি ধান৯৫, হাইব্রিড ধান৬, বিনা ধান৮, বিনা ধান১৩, বিনা ধান১৫, বিনা ধান১৬, বিনা ধান২০, বিনা ধান২২।
সুগন্ধি জাত: ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৮০।
জলমগ্নতা সহনশীল: ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, বিনা ধান১২।
লবণাক্ততা সহনশীল: ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩, ব্রি ধান৭৮, বিনা ধান৮, বিনা ধান১০, বিনা ধান২৩।
অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চল: ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭, ব্রি ধান৭৮।
আকস্মিক বন্যা প্রবণ এলাকা: ব্রি ধান৭৯।
খরাসহনশীল জাত: ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, বিনা ধান১৭, বিনা ধান১৯। খরা প্রবণ এলাকায় নাবি রোপা আমনের পরিবর্তে আগাম জাতের ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৯, বিনা ধান৭ চাষ করতে পারেন।
আষাঢ় মাসে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করা যায়। জমিতে চারা সারি করে রোপণ করতে হবে, এতে আগাছা দমন সহজ হবে।
খরা ও লবণাক্ত এলাকায় জমির এক কোণে মিনি পুকুর খনন করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন, যেন পরবর্তীতে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করা যায়।
৪. পাট:
পাট গাছের বয়স চার মাস হলে ক্ষেতের পাটগাছ কেটে নিতে হবে।
পাট গাছ কাটার পর চিকন ও মোটা পাট গাছ আলাদা করে আঁটি বেঁধে ২/৩ দিন দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। পাতা ঝরে গেলে ৩/৪ দিন পাট গাছগুলোর গোড়া এক ফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হবে।
পাট পচে গেলে পানিতে আঁটি ভাসিয়ে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাড়ানো আঁশ পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বাঁশের আড়ে শুকাতে হবে।
বীজ উৎপাদন: পাটের বীজ উৎপাদনের জন্য ১০০ দিন বয়সের পাট গাছের ১ থেকে ১.৫ ফুট ডগা কেটে নিয়ে দু'টি গিটসহ ৩/৪ টুকরা করে ভেজা জমিতে দক্ষিণমুখী কাত করে রোপণ করতে হবে।
৫. ভুট্টা:
পরিপক্ক হওয়ার পর বৃষ্টিতে নষ্ট হবার আগে ভুট্টার মোচা সংগ্রহ করে ঘরের বারান্দায় নিয়ে আসতে হবে এবং রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভুট্টার মোচা পাকতে দেরি হলে মোচার আগা চাপ দিয়ে নিম্নমুখী করে দিতে হবে, যেন বৃষ্টিতে মোচা নষ্ট না হয়।
৬. শাকসবজি:
এ সময়ে উৎপাদিত শাকসবজির (ডাঁটা, গিমাকলমি, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, বেগুন) গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনে মাটি তুলে দিতে হবে।
সবজি ক্ষেতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরার জন্য বেশি বৃদ্ধি পাওয়া লতা জাতীয় গাছের ১৫-২০ শতাংশের লতাপাতা কেটে দিতে হবে (মূল ডগার অগ্রভাগ কাটা যাবে না)।
কুমড়া জাতীয় সব সবজিতে প্রতিদিন ভোরবেলা হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বন্যার পানি সহনশীল লতিরাজ কচুর আবাদও এ সময় করা যেতে পারে।
৭. ফল ও বৃক্ষ রোপণ:
এ সময় বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের উন্নত জাতের রোগমুক্ত সুস্থ-সবল চারা বা কলম রোপণ করা যাবে।
চারা রোপণের আগে ১ মিটার চওড়া ও ১ মিটার গভীর গর্ত করে গর্তের মাটির সাথে ১০০ গ্রাম করে ডিএপি (DAP) ও এমওপি (MOP) সার মিশিয়ে, দিন দশেক পরে চারা লাগাতে হবে।
চারা রোপণের পর শক্ত খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে এবং বেড়া বা খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা, গোড়ায় মাটি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও সেচ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষির যেকোনো সমস্যায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি অফিসার অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন। এছাড়া কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ নম্বরে বা কৃষক বন্ধু সেবার ৩৩৩১ নম্বরে কল করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।